মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়া কমানোর পর ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর একদিন পর প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।

TBB Newsroom ·

মহড়া কমানোর পর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ

বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া সমুদ্রের দিকে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ সামরিক মহড়ার আকার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে পিয়ংইয়ং অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। এগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের জলসীমার দিকে ছোড়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা নজরদারি জোরদার করেছে এবং উৎক্ষেপণ সম্পর্কে তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এর আগে একটি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল।

উৎক্ষেপণের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক উদ্যোগে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য আলোচনার আগে উত্তর কোরিয়ার অবস্থানের একটি বার্তাও তুলে ধরছে।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের পর কাউন্সিল উত্তর কোরিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বন্ধ করার আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবের অধীনে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ।

এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ১১ দিনের উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়া ছোট করার ঘোষণা দেয়।

মহড়া শুরু হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে মহড়ার আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য আলোচনার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন না দেওয়ার বিষয়টিও তিনি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তুলে ধরেছেন।

ফলে পরিস্থিতিতে একটি অস্বাভাবিক বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে—ওয়াশিংটন আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে সামরিক মহড়া কমিয়েছে, আর পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার নতুন প্রদর্শন করেছে।

ট্রাম্পের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান কিম ইয়ো জংয়ের

কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বুধবার ট্রাম্পের উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেন। তার বক্তব্য ছিল, সামরিক মহড়ার সময় ও আকার কমানো হলেও এর মূল চরিত্র বদলায়নি।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়াকে এখনো উসকানিমূলক ও আগ্রাসী বলে মন্তব্য করেন।

কিম ইয়ো জং চলতি বছরের অন্যান্য মার্কিন-দক্ষিণ কোরীয় সামরিক মহড়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, আলোচনায় ফেরার আগে পিয়ংইয়ং আরও বড় ধরনের ছাড় আশা করছে।

কিম ইয়ো জং বলেছেন, তার ভাই কিম জং উন ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক "এখনো চমৎকার"।

উত্তর কোরিয়ার সাধারণত কঠোর ভাষার বিবৃতির তুলনায় এই বক্তব্য ছিল অপেক্ষাকৃত সংযত। এতে ইঙ্গিত মিলতে পারে যে পিয়ংইয়ং আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না, বরং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি ট্রাম্পের এই দাবিও অস্বীকার করেন যে কিম জং উন তার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধের জবাব দিয়েছেন।

কিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানালেন ট্রাম্প

ট্রাম্প অবশ্য কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের ব্যাপারে আশাবাদী।

বুধবার সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে এ বছর কিমের সঙ্গে তার বৈঠক হবে কি না, ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ, হবে।" দুই নেতার মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি কিমের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কের কথা বলেন।

ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে তিনি কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। এসব বৈঠক উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতির আশা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেঙে যায়।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আবার শুরু করার জটিলতাই তুলে ধরছে। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যও যৌথ সামরিক মহড়া কমানো একটি কঠিন ভারসাম্যের বিষয়। মহড়া কমালে কূটনীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ তাই একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। ওয়াশিংটন কিম জং উনের সঙ্গে নতুন আলোচনার পথ খুঁজলেও উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্র কর্মসূচির মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানই দেখাচ্ছে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

বিশ্ব

উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক পরিসর খুঁজছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া

পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সংলাপ চায় ওয়াশিংটন; বেইজিং সিউলকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

৪ মিনিটের পড়া

বিশ্ব

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করলেন ট্রাম্প

লেক অন্টারিওকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যবহারে “লেক আমেরিকা” নাম দেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কানাডা ও নিউইয়র্ক।

৩ মিনিটের পড়া

বিশ্ব

মার্কিন শুল্ক আরোপে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য উত্তাপ, কড়া জবাব নতুন দিল্লির

ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপের পর ওয়াশিংটন ও নতুন দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার জবাবে স্বার্থ রক্ষার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত।

৩ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে এরদোয়ানের আহ্বান

ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান এবং শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্কের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

২ মিনিটের পড়া