মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

প্রযুক্তি

ঝুকুয়ে-৩ রকেটের বুস্টার অবতরণ, স্পেসএক্সের সঙ্গে ব্যবধান কমাচ্ছে চীন

কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠানোর পর ঝুকুয়ে-৩-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ল্যান্ডস্পেস, যা চীনের প্রথম স্থলভিত্তিক অরবিটাল বুস্টার পুনরুদ্ধার।

TBB Newsroom ·

ঐতিহাসিক বুস্টার পুনরুদ্ধার

কক্ষপথে একটি রকেট উৎক্ষেপণের পর তার প্রথম ধাপ সফলভাবে পুনরুদ্ধার করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি করেছে চীন। বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি ল্যান্ডস্পেসের ঝুকুয়ে-৩ রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে অবতরণ করেছে।

১৯ আগস্টের এই সাফল্য চীনে অরবিটাল শ্রেণির রকেট বুস্টারের প্রথম সফল স্থলভিত্তিক পুনরুদ্ধার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে ঝুকুয়ে-৩ উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি সফলভাবে তার পেলোড কক্ষপথে পাঠানোর পর প্রথম ধাপ নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে।

বুস্টারটি অবতরণের সময় খোলা যায় এমন ল্যান্ডিং লেগ ব্যবহার করে। এই সাফল্যের ফলে অরবিটাল শ্রেণির বুস্টার পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে জায়গা করে নিয়েছে এবং দেশটির দ্রুত সম্প্রসারিত বেসরকারি মহাকাশ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।

ঝুকুয়ে-৩-এর প্রথম ধাপ পুনরুদ্ধারে এটি ল্যান্ডস্পেসের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রিত অবতরণ সম্পন্ন হয়নি, যদিও রকেটটি সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছিল।

সফল অবতরণ চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য অরবিটাল রকেটকে বাস্তব ব্যবহারের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বড় পদক্ষেপ।

ঝুকুয়ে-৩ একটি ৬৬.১ মিটার দীর্ঘ, মিথেন-চালিত স্টেইনলেস-স্টিলের রকেট। শুরু থেকেই এর নকশায় পুনর্ব্যবহারযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপটি পৃথিবীতে ফিরে এসে পুনরায় ব্যবহারের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

সমুদ্র থেকে স্থল অবতরণে অগ্রগতি

সাম্প্রতিক সাফল্যের আগে জুলাই মাসে চীন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রে সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।

সেই বুস্টারের পদ্ধতি ছিল আলাদা। ল্যান্ডিং লেগ ব্যবহার করে সরাসরি অবতরণের পরিবর্তে প্রথম ধাপটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নেমে একটি অফশোর উদ্ধার জাহাজে থাকা জালের মাধ্যমে ধরা হয়। জুলাইয়ের ওই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনকে অরবিটাল শ্রেণির রকেট ধাপ সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা দ্বিতীয় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ঝুকুয়ে-৩-এর সাফল্য দ্বিতীয় একটি পদ্ধতি প্রদর্শন করেছে—ল্যান্ডিং লেগ ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিতভাবে স্থলে ফিরে আসা। একই সঙ্গে এই অর্জনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ ল্যান্ডস্পেস একটি বেসরকারি চীনা কোম্পানি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উৎক্ষেপণ সংস্থা নয়।

দুটি অভিযান মিলিয়ে দেখা যায়, চীন একাধিক প্রযুক্তিগত পথে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা তৈরি করছে। বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি কোম্পানি—উভয় পক্ষই পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের পরীক্ষা চালাচ্ছে।

এই প্রচেষ্টার পেছনে আগের কয়েকটি ব্যর্থতা ও পরীক্ষামূলক কর্মসূচিও রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ল্যান্ডস্পেসের ঝুকুয়ে-৩ প্রথম নিয়ন্ত্রিত অবতরণ প্রচেষ্টা সফলভাবে শেষ করতে পারেনি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টার এই সাফল্য তাই প্রকল্পটির জন্য বড় অগ্রগতি।

স্পেসএক্স এখনও মানদণ্ড

এই সাফল্যের পর চীন ও স্পেসএক্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়ে তুলনা আরও জোরালো হয়েছে। স্পেসএক্স পুনর্ব্যবহারযোগ্য অরবিটাল বুস্টারের কার্যকর ব্যবহারকে বাস্তব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার অংশে পরিণত করেছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবার ফ্যালকন-৯-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে অবতরণ করায় এবং পরে নিয়মিতভাবে বুস্টার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

তাই ল্যান্ডস্পেসের সাফল্য প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমালেও এর অর্থ এই নয় যে চীন ইতিমধ্যে স্পেসএক্সের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

স্পেসএক্স বড় পরিসরে একই বুস্টার বহুবার ব্যবহার করে সফল হয়েছে। ফ্যালকন-৯-এর কিছু প্রথম ধাপ ২০টিরও বেশি মিশনে উড়েছে। বিপরীতে, চীন এখন সফল পুনরুদ্ধার প্রদর্শনের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছে—পুনরুদ্ধার করা বুস্টারকে বারবার সংস্কার করে আবার উৎক্ষেপণ করা।

ল্যান্ডস্পেস জানিয়েছে, ঝুকুয়ে-৩-এর বুস্টার সর্বোচ্চ ২০ বার পর্যন্ত পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। কোম্পানিটি উদ্ধার করা বুস্টারটি ছয় মাসের মধ্যে আবার ব্যবহার করার পরিকল্পনাও করছে। এটি নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণে প্রযুক্তিটির সক্ষমতার আরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।

বাণিজ্যিক ও কৌশলগত গুরুত্ব

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের গুরুত্ব হলো, একই ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার একাধিকবার ব্যবহার করে উৎক্ষেপণের খরচ কমানো সম্ভব। কম খরচে আরও ঘন ঘন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা গেলে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়তে পারে।

এই সাফল্য এমন সময় এসেছে যখন চীন বড় স্যাটেলাইট কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ উৎক্ষেপণের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটির পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি ল্যান্ডস্পেসের মতো বেসরকারি কোম্পানিও কাজ করছে।

ল্যান্ডস্পেসের জন্য এই সাফল্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। কোম্পানিটি সাংহাইয়ের স্টার মার্কেটে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ৭.৫ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ১.১১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

চীনের অগ্রগতি তাই পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিকে ঘিরে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অংশ। কার্যকর পুনর্ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে থাকলেও চীনের সর্বশেষ সাফল্য দেখাচ্ছে যে ব্যবধান কমছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে উদ্ধার করা ঝুকুয়ে-৩ বুস্টারটি সংস্কার করে আবার সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা যায় কি না। একটি সফল অবতরণ সক্ষমতার প্রমাণ দেয়; কিন্তু বারবার উৎক্ষেপণ ও পুনরুদ্ধারই একটি টেকসই পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ব্যবসার ভিত্তি তৈরি করবে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

প্রযুক্তি

এআই দ্রুত এগোচ্ছে—কিন্তু সামনে যা আসছে, তার জন্য কি মানুষ প্রস্তুত?

চীনে রোবট দুর্ঘটনা বড় প্রশ্ন তুলেছে: এআই-চালিত যন্ত্র দ্রুত এগোলে, মানুষ কি তার বিকাশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে?

৩ মিনিটের পড়া

বিশ্ব

উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক পরিসর খুঁজছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া

পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সংলাপ চায় ওয়াশিংটন; বেইজিং সিউলকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

৪ মিনিটের পড়া