মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

রাজনীতি

রোহিঙ্গা সংকট ও সংস্কার এজেন্ডা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যাচ্ছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে সামনে রেখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

Jubayer Ahmed ·

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অংশ নিতে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে রোহিঙ্গা সংকট, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের উদ্যোগ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার বলছে, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই প্রধান কূটনৈতিক অগ্রাধিকার

সরকার জানিয়েছে, এবারের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে রোহিঙ্গা সংকট। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখনো দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী পরিস্থিতি।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সমর্থন চাইবে। একই সঙ্গে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হবে।

সরকারের মতে, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। তাই এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় ধরে রাখা বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই নিশ্চিত করতে হবে এবং সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা জরুরি।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কার বার্তা

রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতিসংঘে দেশের চলমান সংস্কার এজেন্ডাও তুলে ধরতে চায়। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সুশাসন, জবাবদিহি এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীলতা, অভিবাসন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরবে। সরকার মনে করছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে এসব বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানো দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের এই মঞ্চ বাংলাদেশের বর্তমান নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে ব্যাখ্যা করার একটি সুযোগও তৈরি করছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য

সাধারণ পরিষদের ফাঁকে বাংলাদেশের একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য সম্পর্ক, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজবে। সরকারের মতে, ইউএনজিএ কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

কেন এবারের ইউএনজিএ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে একাধিক মানবিক সংকট, জলবায়ু ঝুঁকি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা একসঙ্গে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশ এই অধিবেশনের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে নিজের সক্রিয় ভূমিকা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে।

সরকার মনে করছে, এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন, মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

তাই এবারের ইউএনজিএ সফর বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি কূটনৈতিক অংশগ্রহণ নয়; এটি মানবিক দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

রাজনীতি

মক্কা চুক্তিতে যোগদানের ভাবনা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্ক

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা দেশটির দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

২ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের অনিশ্চয়তা, মিয়ানমারের পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান ঢাকার

রোহিঙ্গা যাচাই, পরিচয় ও রাখাইনের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই মিয়ানমারের নতুন পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

৩ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী রহমান'র 'বাংলাদেশ ফার্স্ট'; ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা

তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে দিল্লির সঙ্গে আরও পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরির পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

৪ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে আছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর, ঢাকার কড়া বার্তা

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আবেদনে অগ্রগতি না হলে তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত বলে জানিয়েছে ঢাকা, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

৩ মিনিটের পড়া