মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

খেলা

কানসেলো ফিরছেন বার্সায়: আল-হিলালের চুক্তি বাতিল করে

আল-হিলালের চুক্তি বাতিল করে এবং বেতনের বড় অংশ ছেড়ে দিয়ে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে স্থায়ীভাবে বার্সেলোনায় যোগ দিতে চলেছেন কানসেলো।

TBB Newsroom ·

তৃতীয়বার বার্সায়, এবারই প্রথম স্থায়ীভাবে

তৃতীয়বারের মতো এফসি বার্সেলোনার খেলোয়াড় হতে চলেছেন জোয়াও কানসেলো, আর এবারই প্রথম স্থায়ী চুক্তিতে। ইএসপিএনকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ৩২ বছর বয়সী এই ফুলব্যাক আল-হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিলে রাজি হয়েছেন, ফলে ফ্রি এজেন্ট হিসেবেই স্পেনের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন তিনি। মুন্দো দেপোর্তিবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী মঙ্গলবার দুই বছরের চুক্তিতে সই করার কথা তাঁর, আর ফাব্রিৎসিও রোমানো জানিয়েছেন কাতালোনিয়ায় যাওয়ার সবুজ সংকেত ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন এই পর্তুগিজ।

জাভি এর্নান্দেসের অধীনে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ধারে প্রথমবার বার্সেলোনায় আসেন কানসেলো। এরপর গত জানুয়ারিতে আবার ধারেই ফেরেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমের দ্বিতীয়ভাগে ২৩ ম্যাচ খেলে দুটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি, দলকে সহায়তা করেন লা লিগা জিততে, এবং এই শতাব্দীতে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের চারটি জেতা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন।

অ্যান্থনি গর্ডন, করিম আদেয়েমি ও জেসি বিসিউর পর তিনি হবেন গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বার্সেলোনার চতুর্থ সাইনিং, তবে সম্ভবত শেষ নন। ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি, একজন নাম্বার নাইন — যাঁদের মধ্যে আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেসের নাম আছে — এবং সম্ভবত একজন সেন্টার-ব্যাকের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি।

যে ত্যাগে খুলল দরজা

দলবদলের প্রায় পুরো সময়টাই বাধা ছিল অর্থ। রাক১-এর তথ্য অনুযায়ী, বোনাসসহ সর্বোচ্চ ১ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফি নিয়ে বার্সেলোনা ও আল-হিলালের মধ্যে মুখে মুখে বোঝাপড়া হয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরব থেকে আসা খবরে জানা যায়, প্রো লিগের ক্লাবটি দাবি বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো চেয়েছে। ২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে কানসেলোকে আনতে আল-হিলাল খরচ করেছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, আর তাঁর চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

বাধা পেরোনোর পথটা এল খেলোয়াড়ের নিজের আয়ের ভেতর দিয়েই। মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ছাড়তে কানসেলো তাঁর বাকি বেতনের বড় একটি অংশ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন। এফসিবি ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে সৌদি সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল-হুনাইয়ান বলছেন, পরিমাণটা প্রায় ১১ মাসের বেতনের সমান — কেরিয়ারের শেষভাগে থাকা একজন খেলোয়াড়ের জন্য যা যথেষ্ট বড় ক্ষতি।

এটি তাঁর প্রথম ছাড় নয়, দ্বিতীয়। জানুয়ারিতে ধারে আসার সময়েই সৌদি বেতনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমাতে রাজি হয়েছিলেন তিনি, কোনো প্রতিবেদনে সেটি অর্ধেকের কাছাকাছি বলা হয়েছে। রাক১ জানাচ্ছে, বার্সেলোনার নতুন শর্তেও আরেক দফা বেতন কমিয়েছেন তিনি। এর ফলেই সমীকরণ থেকে ট্রান্সফার ফি পুরোপুরি মুছে গেল, আর প্রমাণিত একজন ফুলব্যাককে বিনা অর্থেই পেয়ে গেল বার্সেলোনা।

জানুয়ারিতে ফেরার সময় কানসেলো বলেছিলেন, ফেরার সুযোগ পেয়ে তিনি দুবার ভাবেননি।

কেন এত চেষ্টা করল বার্সেলোনা

মূল চালিকাশক্তি ছিলেন হানসি ফ্লিক। শোনা যায়, ধারে আসার শুরুতেই কানসেলোর পারফরম্যান্সের মান দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন জার্মান কোচ, এবং স্থায়ী চুক্তির জন্য এগোতে ক্রীড়া বিভাগকে চূড়ান্ত সম্মতি দেন তিনি। রক্ষণের দুই প্রান্তেই খেলতে পারা একজন ডিফেন্ডারকে বিশেষ মূল্য দেন ফ্লিক।

বিক্রির বদলে চুক্তি বাতিলের দিকে বিষয়টি গড়ানোর পেছনে কাজ করেছে কয়েকটি কারণ — খেলোয়াড়ের ছাড়ার দৃঢ় ইচ্ছা, আল-হিলালের স্কোয়াডে বিদেশি ফুটবলারের আধিক্য এবং কোচ সিমোনে ইনজাগির সঙ্গে টানাপোড়েন। শুরু থেকেই সৌদি আরবে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছিল কানসেলোর, আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ ছন্দ প্রয়োজন এমন সময়ে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। আলোচনায় বড় ভূমিকা ছিল এজেন্ট জর্জ মেন্দেসের। ক্রীড়া পরিচালক দেকো কারণটি খোলাসা করেই বলেছেন।

দেকো বলেছেন, কানসেলোকে নিতে তাঁরা চেষ্টা করেছেন কারণ তিনি বারবার দেখিয়েছেন যে তিনি একজন পাগল বার্সা ভক্ত।

সই না হওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়

ঘোষণার ব্যাপারে সতর্ক থাকার কারণ আছে বার্সেলোনার। গত জানুয়ারিতে ধারের চুক্তির ঘোষণা দিয়েও কয়েক মিনিটের মধ্যে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হয়েছিল ক্লাবটিকে, কারণ ট্রান্সফার ম্যাচিং সিস্টেমে স্পেন ও সৌদি ফেডারেশনের মধ্যে কাগজপত্র তখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তবু সেই মঙ্গলবার ক্লাব কার্যালয়ে সই অনুষ্ঠান হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা, প্রথম সহ-সভাপতি রাফায়েল ইউস্তে, বোর্ড সদস্য জোয়ান সোলের ও দেকো এবং খেলোয়াড়ের পরিবার। পরে ২ নম্বর জার্সিতেই নিশ্চিত হন কানসেলো।

আপাতত চুক্তিটি অঘোষিত। আলোচনা কার্যত সম্পন্ন বলা হচ্ছে, বাকি কেবল সই ও কাগজপত্র। কানসেলোর আগমন হেক্তর ফোর্ত ও জাভি এসপার্তকে নিয়ে সিদ্ধান্তও দ্রুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; দুজনের ক্ষেত্রেই বিক্রি বা ধারে পাঠানো — দুটিই সম্ভাব্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

খেলা

রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদন

তুর্কি সংবাদমাধ্যমে রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের দাবি প্রকাশিত হলেও সাবেক ব্রাজিল তারকা নিজে এখনো তা নিশ্চিত করেননি।

৩ মিনিটের পড়া