মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

রাজনীতি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে আয় কমে ৮৬২ কোটি টাকায় নেমেছে

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত সরকারি তথ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ধারাবাহিক হ্রাসের চিত্র উঠে এসেছে।

Jubayer Ahmed ·

২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ৮৬২ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতীয় সংসদে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ এই আয়ের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়, যা আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্বের একটি নিম্নমুখী ধারা প্রকাশ করছে।

রাজস্বের জোড়া উৎস

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মূলত দুটি উপায়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।

আয়ের একটি অংশ আসে জাতিসংঘ থেকে শান্তিরক্ষীদের প্রদান করা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা হিসেবে, যা সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সরাসরি পেয়ে থাকেন।

এছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহৃত বাংলাদেশের যানবাহন এবং অন্যান্য সামরিক বা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বিপরীতে পাওয়া ভাড়া সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, এই দ্বি-মুখী কাঠামোর কারণে ব্যক্তিগতভাবে শান্তিরক্ষী সদস্য এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার উভয়েই বহুপাক্ষিক এই মিশনগুলো থেকে আর্থিক সুবিধা পায়।

অর্থবছরের ধারাবাহিক তথ্য

সংসদে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদনে বিগত অর্থবছরগুলোতে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ধারাবাহিক হ্রাসের চিত্র দেখা গেছে।

  • ২০২১-২২ অর্থবছরে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে মোট আয় হয়েছিল ১,৮৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার ২৯২ টাকা।

  • ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই আয়ের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১,২৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৭১ হাজার ১০০ টাকায়।

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় আরও কমে দাঁড়ায় প্রায় ৮৬২ কোটি টাকায়।

দুই বছরের ব্যবধানে এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় অর্ধেকেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষা মিশনের পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্তিত চাহিদা প্রকাশ করে।

বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা

২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য মিশনে কর্মরত ছিলেন, যার সংখ্যা ছিল ৩,৫৫৭ জন।

সেনাবাহিনীর এই সদস্যদের মধ্যে ২৬১ জন নারী শান্তিরক্ষী বিভিন্ন পরিচালন ও সহায়তামূলক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩০৫ জন, বিমান বাহিনীর ২৬৮ জন এবং বাংলাদেশ পুলিশের ১১ জন সদস্য উক্ত সময় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্বরত ছিলেন।

ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্ক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৈশ্বিক দরবারে দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে সুসংহত করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব, ভূ-কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করেছে।

বর্তমানে ৫১টি দেশের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশন বাংলাদেশে পরিচালিত হচ্ছে, পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক সংস্থাও ঢাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

অর্থনীতি

বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার নতুন সমঝোতার আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে, যা নিরাপদ ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসনের নতুন…

২ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মানবিক সহায়তার প্রস্তাব বাংলাদেশের

প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

২ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

মক্কা চুক্তিতে যোগদানের ভাবনা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্ক

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা দেশটির দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

২ মিনিটের পড়া

ধরিত্রী

বর্ষার তাণ্ডবে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে ঝুঁকি

টানা বর্ষণ ও নদীর পানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

৩ মিনিটের পড়া