মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

মতামত

রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে সম্মানসূচক শব্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান

দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে "মহামান্য" ও "মাননীয়" নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রটোকল ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার ওপর প্রভাব ফেলছে।

Abdul Momen Talukder ·

সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে "মহামান্য" ও "মাননীয়" ব্যবহারে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। এটি কোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলার পদক্ষেপ নয়, বরং এমন একটি বিষয় যা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় পদের মর্যাদা—উভয়ের ওপরই অপ্রয়োজনীয় প্রভাব ফেলছে। এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক রীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ

বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে একটি প্রথাগত সম্মানসূচক কাঠামো অনুসরণ করা হয়। ইংরেজিতে "His Excellency" বা "The Honorable"-এর মতো শব্দগুলো ব্যক্তিপূজা নয়, বরং পদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি সর্বজনস্বীকৃত রীতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "মহামান্য" ও "মাননীয়" ঠিক এই কাজটিই করে আসছিল। এই প্রথা বাতিল করা রাষ্ট্রীয় ভাষারীতিকে আন্তর্জাতিক মান থেকে বিচ্ছিন্ন করে।

প্রাতিষ্ঠানিক গাম্ভীর্য ও সফট পাওয়ারের দ্বন্দ্ব

রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর পদ কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের প্রতীক।

ক্ষমতার প্রতি সাধারণ মানুষের নৈকট্য বাড়াতে বা আভিজাত্য কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই ধরনের "সফট পাওয়ার" নির্মাণের চেষ্টা তাত্ত্বিকভাবে অনুমেয় হলেও বাস্তবে বিপরীত ফল দিতে পারে। প্রথাগত সম্মানসূচক আবরণ সরিয়ে ফেলা মানে পদের প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব হ্রাস করা, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো শীর্ষ পদ দুর্বল বা সহজলভ্য প্রতিভাত হয়, তখনই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো সুযোগ খোঁজে।

প্রতীকী রাজনীতির নানা ঝুঁকি

সাধারণ মানুষের কাছাকাছি দেখানোর প্রতীকী পদক্ষেপগুলো স্বল্পমেয়াদে জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করে। একজন নেতা যত বেশি নিজের পদকে সাধারণ করে তুলবেন, ততই তার সিদ্ধান্তের ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনিক ভাষা ও প্রটোকলের এই পরিবর্তনগুলোর বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক পরিণতি থাকে।

সংস্কারের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা কী ছিল। এটি কোনো নীতিগত সংস্কার নয়, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পদক্ষেপও নয়। এটি জনগণের কোনো দাবি বা প্রত্যাশার প্রতিফলনও ঘটায় না। রাষ্ট্রীয় সীমিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পুঁজি এমন প্রতীকী বিষয়ে ব্যয় না করে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া যেত।

  • প্রটোকল রাষ্ট্রীয় পদের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

  • প্রশাসনিক পুঁজি প্রতীকী পরিবর্তনের চেয়ে বাস্তব নীতিগত সংস্কারে ব্যয় করা উচিত।

  • ঐতিহ্যবাহী সম্বোধন বাতিল বৈশ্বিক প্রথা থেকে দূরত্ব তৈরি করে।

বিপরীত যুক্তি ও বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি

তবে এই সমালোচনার বিপরীতেও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা রয়েছে। সমর্থকরা মনে করেন, ঔপনিবেশিক ও সামন্ততান্ত্রিক ভাষারীতি থেকে বেরিয়ে আসা একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ, যা ক্ষমতাকে জনগণের কাছে অধিক জবাবদিহিমূলক করে তোলে। তাদের মতে, ভাষাগত আভিজাত্য বিলোপ মানেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছু স্ক্যান্ডিনেভীয় রাষ্ট্র সরল সম্বোধনরীতি অনুসরণ করলেও তাদের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হয়নি।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

রাজনীতি

প্রশাসনিক সংস্কার এগোচ্ছে, বাস্তবায়নই এখন বাংলাদেশের মূল পরীক্ষা

বাংলাদেশে প্রশাসনিক সংস্কার এগোলেও এর আসল সাফল্য নির্ভর করছে দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক জনসেবা নিশ্চিতকরণের ওপর।

৩ মিনিটের পড়া

ধরিত্রী

শক্তিশালী সুপার এল নিনো নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা, বাড়তে পারে জলবায়ুর প্রভাব

শক্তিশালী এল নিনো ও ইতিবাচক ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল দক্ষিণ এশিয়ায় তাপ, বৃষ্টিপাত ও কৃষিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।

৩ মিনিটের পড়া

স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে নতুন হাম ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচি, মৃত্যু ছাড়াল ১,০০০

১৭১,০০০-এর বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্তের মধ্যে নতুন হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিচ্ছে বাংলাদেশ, সামনে এসেছে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান ঘাটতি।

৫ মিনিটের পড়া

শিক্ষা

দক্ষতার ঘাটতিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে তরুণদের ওপর বাড়ছে চাপ

শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার ব্যবধান বাড়ায় তরুণ ও শিক্ষিতদের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

৪ মিনিটের পড়া