মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

মতামত

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত: পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণে ঐতিহাসিক চুক্তি

পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে আইডিবি-র সাথে ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।

Abdul Momen Talukder ·

দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ সরকার। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)-এর সঙ্গে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ উদ্যোগ।

৫৮ বছরের প্রতিষ্ঠানে নতুন যুগের সূচনা

স্বাধীনতা-পূর্ব সময় থেকে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার হিসেবে কাজ করে আসা ইআরএল-এর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বহু বছর ধরে ঝুলে ছিল অর্থায়ন-জটিলতায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। নতুন ইউনিট চালু হলে এই ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে দাঁড়াবে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টনে।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর পতেঙ্গায় দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণই ইস্টার্ন রিফাইনারির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ উদ্যোগ।

দেশের অর্ধেক চাহিদা মিটবে দেশেই

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় অর্ধেক এখান থেকেই পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

  • বার্ষিক শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।

  • স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বছরে আনুমানিক ৩৯৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

  • ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি খাতে দেশের স্বাবলম্বিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাজার সুরক্ষা

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু আমদানি-নির্ভরতা কমাবে না, বরং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্য-অস্থিরতার ধাক্কা থেকেও দেশকে অনেকটা সুরক্ষিত রাখবে।

স্থানীয়ভাবে পরিশোধন ক্ষমতা বাড়লে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দামেও স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

সঠিক বাস্তবায়নই আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ

সামগ্রিকভাবে, পতেঙ্গার এই চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে নির্ধারিত সময়ে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?

অর্থনীতি

গ্যাস সংকট বাড়তি এলএনজি নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে আনছে

এলএনজি টার্মিনালে বড় ধরনের বিঘ্ন বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালিতে চাপ তৈরি করে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

৪ মিনিটের পড়া

অর্থনীতি

উচ্চ এলএনজি দামে বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিতে ফের চাপ

ব্যয়বহুল আমদানি করা এলএনজি শিল্প, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সরকারি অর্থে চাপ বাড়াচ্ছে; বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে ঢাকা।

৪ মিনিটের পড়া

অর্থনীতি

বাংলাদেশে সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে করের বোঝা কমে ১ শতাংশ, মেয়াদ ১৮০ দিন

বাংলাদেশে যোগ্য সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে করের কার্যকর বোঝা প্রায় ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে ১৮০ দিনের জন্য।

৩ মিনিটের পড়া

রাজনীতি

রোহিঙ্গা সংকট ও সংস্কার এজেন্ডা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যাচ্ছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে সামনে রেখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

২ মিনিটের পড়া