মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

শিক্ষা

অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবিত ভিসা পরিবর্তনে অধিকাংশ নতুন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীকে ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

TBB Newsroom ·

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ডিপেন্ডেন্ট নেওয়ার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তন ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চান, তারা নতুন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার সেকেন্ডারি অ্যাপ্লিক্যান্ট হিসেবে তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারবেন না।

তবে এই প্রস্তাব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন নিষিদ্ধ করছে না। পরিবর্তনটি মূলত শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নিয়ে।

ডিপেন্ডেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ

অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, অধিকাংশ নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার আওতায় তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানকে আর সঙ্গে নিতে পারবেন না।

যেসব দেশ ঘোষিত ছাড়ের আওতায় পড়বে না, তাদের শিক্ষার্থীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ASEAN-এর সদস্য নয়। অন্যদিকে, ASEAN ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিশেষ শর্তে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।

তবে নতুন নিয়মের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিয়মটি ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কোন কোন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিতে পারবেন, সেসব বিষয়ও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।

এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন ডিপেন্ডেন্ট নেওয়ার সুযোগ নিয়ে; এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন নিষিদ্ধ করছে না।

পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রত্যাশিত ছাড়

ঘোষিত পরিবর্তনে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ের কথা বলা হয়েছে।

পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা জাতীয়তা নির্বিশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও ঘোষিত ছাড়ের আওতায় থাকার কথা।

তবে অন্যান্য প্রোগ্রামে, যেমন ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন বিধিমালা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ও ASEAN-এর শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ শর্তে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।

বিশেষ শর্তের আওতায় ASEAN দেশগুলো

Association of Southeast Asian Nations বা ASEAN-এর সদস্য মোট ১০টি দেশ:

  • ব্রুনেই

  • কম্বোডিয়া

  • ইন্দোনেশিয়া

  • লাওস

  • মালয়েশিয়া

  • মিয়ানমার

  • ফিলিপাইন

  • সিঙ্গাপুর

  • থাইল্যান্ড

  • ভিয়েতনাম

বাংলাদেশ ASEAN-এর সদস্য নয়। ফলে ASEAN শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ শর্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না।

দেশভিত্তিক এই ছাড়গুলো কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো সব বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য প্রভাব

প্রস্তাবিত পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা পিএইচডি ছাড়া অন্যান্য কোর্সে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ডিপেন্ডেন্ট নিয়মের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা পরিবারগুলোকে নতুন পরিবর্তনের কারণে আলাদা করা হবে না।

পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রকাশের আগে এটিকে সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীর ওপর একটি সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

এখানে শিক্ষার্থীর নিজস্ব ভিসা এবং ডিপেন্ডেন্টের ভিসার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার যোগ্য থাকতে পারেন, কিন্তু তার সঙ্গে স্বামী বা স্ত্রী যেতে পারবেন কি না, তা কোর্স, জাতীয়তা এবং নতুন নীতির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন বিধির ওপর নির্ভর করতে পারে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?