সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার
সমকামিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে প্রশাসন।

সমকামিতার সঙ্গে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রথম বর্ষের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একটি নিরপেক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর হল প্রশাসন স্থানীয় অভিভাবকদের তলব করে এবং তাদের উপস্থিতিতে আফিফ হাসান নীরব ও আরিফুল হক শুভ নামের ওই দুই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে আবাসিক হল থেকে বের করে দেয়। তারা উভয়েই এই স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত। বহিষ্কৃত আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র, তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। অন্যদিকে, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল হক শুভর বাড়ি নেত্রকোনায়। প্রথমদিকে অভিযোগ ওঠার পরপরই আনুষ্ঠানিক এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হলের সব ধরনের আবাসিক সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তদন্ত প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী এই ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর পুরো প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগকারী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ হল প্রশাসনের কাছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে প্রশাসন অভিযোগটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তকারী দল ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
"হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠার পর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
আহমেদ আল সাবাহ নিশ্চিত করেন যে, অপরাধের সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। হল থেকে বের করে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থীদের স্থানীয় অভিভাবকদের সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাডেমিক প্রভাব প্রথম বর্ষের এই দুই শিক্ষার্থীর জন্য শাস্তির মাত্রা শুধু হলের সিট বাতিলের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রশাসন পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য তাদের তদন্তের প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। জিএস সাবাহ জানান যে, বিষয়টি এখন আর কেবল হল পর্যায়ের সিদ্ধান্তের মধ্যে আটকে নেই। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
হল কর্তৃপক্ষ তাদের সিট বরাদ্দ এবং সকল আবাসিক সুযোগ-সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ থেকে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ প্রতিরোধ বোর্ড চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে যে নীরব এবং শুভ এই প্রতিষ্ঠানে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, অথবা তাদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিতে হবে। পূর্ববর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামিতার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি আচরণবিধির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন প্রয়োগ করে থাকে, যা মূলত দেশের বৃহত্তর আইনি ও সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে, গত ৩০ জুলাই মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রশাসনও প্রায় একই রকম পরিস্থিতিতে এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করেছিল। সেই ঘটনায় একটি দ্রুতগতির অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর হল প্রশাসন ওই শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট স্থায়ীভাবে বাতিল করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জুলাই মাসের ওই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছিলেন। সেই ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করা হয় এবং পরবর্তীতে তার নিজ বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। পরপর ঘটা এসব ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি এবং সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থান গ্রহণের বিষয়টিকেই সকলের সামনে সুস্পষ্ট করে তোলে।
খবরটি কেমন লাগল?
সম্পর্কিত প্রতিবেদন
মক্কা চুক্তিতে যোগদানের ভাবনা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্ক
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা দেশটির দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বর্ষার তাণ্ডবে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে ঝুঁকি
টানা বর্ষণ ও নদীর পানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।
ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ, বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিডিজবস-সংশ্লিষ্ট তথ্য ফাঁসের অভিযোগে অনলাইনে দেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন
রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ
রংপুরের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে; হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।




