এসএসসিতে ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য, যা গত বছরের তুলনায় বড় বৃদ্ধি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ১০ আগস্ট ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিসংখ্যান কয়েকটি শিক্ষাধারায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকেই সামনে আনছে।
ফলাফলের সরকারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা খাতে, যেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
ফলাফলের চিত্র
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩০ হাজার ৪০২টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বণ্টন ছিল এমন:
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫৭টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২২৬টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও উত্তীর্ণ হয়নি
বিদেশের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও পাসের হার শূন্য
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অংশই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের।
গত বছরের তুলনায় বড় বৃদ্ধি
সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান গত বছরের ফলাফলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২৫ সালের তুলনায় শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৩০৩টি।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পুরোপুরি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৭। বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও ঊর্ধ্বমুখী ধারাই বজায় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। গত বছর ৮৬টি মাদ্রাসায় কেউ পাস করেনি; এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২৬, অর্থাৎ বাড়তি ১৪০টি প্রতিষ্ঠান।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালে এই বোর্ডের অধীনে কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য ছিল না, কিন্তু ২০২৬ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২৯টি প্রতিষ্ঠান।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে, ফল প্রকাশের ব্রিফিংয়ে বলেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।
পরীক্ষার প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল, শেষ হয় ২০ মে।
দেশজুড়ে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বৃহত্তর ফলাফল-সূচকের সঙ্গেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, সামগ্রিক পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। আলাদা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা আগেও বলেছেন, শেখার ঘাটতি, সম্পদের সীমাবদ্ধতা, পাঠদানের মানে অসমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা পরীক্ষার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে। পুরোপুরি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেনি, তবে তথ্য আরও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে।
উপসংহার
৩১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার বিষয়টি ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা খাতে তীব্র বৃদ্ধি নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি। তবে শিক্ষার মান, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় এই ফলাফল প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্য মূল্যায়ন চলতে থাকায় পুরোপুরি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল শিক্ষানীতি ও সংস্কার প্রচেষ্টার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে থাকবে।
খবরটি কেমন লাগল?
সম্পর্কিত প্রতিবেদন
বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার নতুন সমঝোতার আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে, যা নিরাপদ ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসনের নতুন…
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে আয় কমে ৮৬২ কোটি টাকায় নেমেছে
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত সরকারি তথ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ধারাবাহিক হ্রাসের চিত্র উঠে এসেছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মানবিক সহায়তার প্রস্তাব বাংলাদেশের
প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
মক্কা চুক্তিতে যোগদানের ভাবনা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্ক
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা দেশটির দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।



