হরমুজ নিয়ে ইরানের শর্ত বহাল, আঞ্চলিক ঝুঁকিতে বাড়ল তেলের দাম
হরমুজ খুলে দেওয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের শর্ত জুড়ে দেওয়া এবং নতুন হামলায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত ইরানি কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করার পর এবং জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলে হামলার খবরে আঞ্চলিক সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সোমবার তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারের ওপরে লেনদেন হয়েছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৭৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা গত সপ্তাহের পতনের একাংশ পুষিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরে অবাধ চলাচল কবে ফিরবে, সেই অনিশ্চয়তায় সাড়া দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সপ্তাহান্তে ইরান জানিয়েছে, ওমানকে যুক্ত করে চলা আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরুর আগে আরও কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত মীমাংসা করতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রভাব মূল্যায়ন করে চলেছে সরকার, জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ও পণ্যবাজার।
হরমুজ অনিশ্চয়তায় বাজারের প্রতিক্রিয়া
দ্রুত সমাধান না-ও আসতে পারে—এমন ইঙ্গিতে জ্বালানি বাজার তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়েছে। বিশ্বের তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ পথ, আর এখানে যেকোনো ব্যাঘাত সরবরাহ প্রত্যাশা ও দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজারের অংশীজনরা আগে ধারণা করেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই প্রণালী খুলে দেওয়া হতে পারে। সেই প্রত্যাশাতেই গত সপ্তাহে তেলের দাম কমেছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিত রয়েছে বলে তেহরানের বক্তব্যের পর ব্যবসায়ীরা সেই ধারণা পুনর্বিবেচনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিশ্চিত সরবরাহ ঘাটতি নয়, বরং অনিশ্চয়তাই দামের ওঠানামার প্রধান কারণ।
অপরিশোধিত তেলের দাম পরস্পরবিরোধী শক্তির টানাপোড়েনে আটকে আছে, বলেছেন বাজার বিশ্লেষক সুগন্ধা সচদেবা—অগ্রগতির আশা আর বিধিনিষেধ বহাল থাকার আশঙ্কার কথা বোঝাতে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
জ্বালানি স্থাপনা ও সমুদ্রপথে হামলার খবরে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরামকোর জাজান শোধনাগারে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে; উল্লেখযোগ্য পরিশোধন সক্ষমতা রয়েছে স্থাপনাটির।
এর আগে আঞ্চলিক অবকাঠামোয় বিঘ্নের খবর এসেছিল। উপসাগরীয় নৌপথের বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের রপ্তানি পথের ওপর নির্ভর করে আসছে, ফলে ওই করিডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাডনক জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ ঘিরে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পূর্ণ প্রভাব এখনো যাচাই চলছে, তবে এতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও বিমা খরচ নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।
হামলার লক্ষ্য হয়েছে শোধনাগার, বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজ
নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে শিপিং কোম্পানিগুলো
রপ্তানি প্রবাহে সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত আলোচনা এগোচ্ছে। তবে তাঁরা নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বৃহত্তর দাবির ওপরও জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিদ্যমান অঙ্গীকার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এখনো সীমিত।
খবরটি কেমন লাগল?
সম্পর্কিত প্রতিবেদন
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল থমকে, গভীর হচ্ছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংকট
স্থবির কূটনীতি ও ট্যাংকারে হামলায় হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে, চাপে তেলের বাজার এবং বাড়ছে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে এরদোয়ানের আহ্বান
ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান এবং শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্কের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ভঙ্গুর, গাজায় গভীরতর হচ্ছে মানবিক সংকট
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন সহিংসতা, ত্রাণ সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও মৌলিক সেবার ঘাটতিতে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে।
মক্কা চুক্তিতে যোগদানের ভাবনা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্ক
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা দেশটির দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।




