বাংলাদেশে সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে করের বোঝা কমে ১ শতাংশ, মেয়াদ ১৮০ দিন
বাংলাদেশে যোগ্য সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে করের কার্যকর বোঝা প্রায় ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে ১৮০ দিনের জন্য।

করের বোঝা কমেছে
বাংলাদেশে যোগ্য সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে করের কার্যকর বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সাময়িক সুবিধা দিয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে।
নতুন সুবিধাটি প্রাসঙ্গিক এসআরও বা প্রজ্ঞাপনের অধীনে ১৮০ দিন, অর্থাৎ ছয় মাস কার্যকর থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য সরঞ্জাম আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম আমদানিতে কার্যকর মোট করের বোঝা ১ শতাংশে নেমে আসছে।
এর আগে আগের ছাড়ের পরও যোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে কার্যকর করের বোঝা ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে ছিল ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর। ফলে যোগ্য সৌর সরঞ্জাম আমদানিকারকদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের কর পরিবর্তন।
এনবিআর শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদেরও এই সুবিধার আওতায় এনেছে। এর আগে বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা এই কর সুবিধা থেকে বাদ ছিলেন।
কোন সরঞ্জাম থাকছে আওতায়
কর সুবিধার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে সৌর প্যানেল, মাউন্টিং কাঠামো, লিথিয়াম ব্যাটারি, ইনভার্টার, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং মনিটরিং ও কন্ট্রোল সরঞ্জাম উল্লেখযোগ্য।
এই বিস্তৃত আওতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় শুধু ফটোভোলটাইক প্যানেলের দামের ওপর নির্ভর করে না। ব্যাটারি, ইনভার্টার, মাউন্টিং ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামও একটি পূর্ণাঙ্গ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
এসব শ্রেণির সরঞ্জামের আমদানি ব্যয় কমানোর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উপকরণ দেশে আনার মোট খরচ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের সৌর প্রকল্পের অর্থনৈতিক হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এনবিআর বলেছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য সৌর প্রকল্পের ব্যয় কমানো, নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নত করা।
তবে সুবিধাটি স্থায়ী নয়। ১৮০ দিনের মেয়াদ থাকায় আমদানিকারক ও প্রকল্প উদ্যোক্তাদের সরঞ্জাম কেনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণে নির্ধারিত সময়সীমা ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই কর ছাড় এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৫,৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ এবং আরও ৪,৫০০ মেগাওয়াট গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রুফটপ সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য ভবনসহ বিদ্যমান স্থাপনা ও উপযুক্ত জায়গাকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) আলাদাভাবে জানিয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি রুফটপ সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহারও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পরিকল্পনার অংশ।
এ কারণে সৌর সরঞ্জামের কর কমানোর সিদ্ধান্তকে শুধু আমদানি শুল্কের পরিবর্তন হিসেবে দেখার পাশাপাশি বৃহত্তর নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
কর কমানোর ফলে যোগ্য সৌর সরঞ্জাম বাংলাদেশে আমদানি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হওয়ার কথা। এতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ, বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সৌর প্রকল্প এবং ব্যাটারি-সংযুক্ত সৌরব্যবস্থার অর্থনৈতিক হিসাব আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে কর কমার অর্থ এই নয় যে বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চূড়ান্ত দাম একই হারে কমবে। সরঞ্জামের মূল দাম, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, সরবরাহকারীর মুনাফা এবং ব্যবসায়ীরা কর ছাড়ের কতটা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন—এসব বিষয়ও চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলবে।
সাময়িক ব্যবস্থাটিও গুরুত্বপূর্ণ। সুবিধাটি ১৮০ দিনের জন্য কার্যকর এবং তা নির্ধারিত শর্ত ও যোগ্য সরঞ্জামের শ্রেণির ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য এই সিদ্ধান্ত মূল উপকরণ আমদানিতে কম করের একটি সময়সীমাবদ্ধ সুযোগ তৈরি করেছে। একই সময়ে সরকার নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই কর কমানোর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে কম আমদানি ব্যয় নতুন সৌর স্থাপনা কতটা বাড়ায় এবং ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষে এই নীতি অব্যাহত থাকে কি না তার ওপর।
খবরটি কেমন লাগল?
সম্পর্কিত প্রতিবেদন
উচ্চ এলএনজি দামে বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিতে ফের চাপ
ব্যয়বহুল আমদানি করা এলএনজি শিল্প, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সরকারি অর্থে চাপ বাড়াচ্ছে; বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে ঢাকা।
রোহিঙ্গা সংকট ও সংস্কার এজেন্ডা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যাচ্ছে বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে সামনে রেখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
শক্তিশালী সুপার এল নিনো নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা, বাড়তে পারে জলবায়ুর প্রভাব
শক্তিশালী এল নিনো ও ইতিবাচক ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল দক্ষিণ এশিয়ায় তাপ, বৃষ্টিপাত ও কৃষিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশে নতুন হাম ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচি, মৃত্যু ছাড়াল ১,০০০
১৭১,০০০-এর বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্তের মধ্যে নতুন হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিচ্ছে বাংলাদেশ, সামনে এসেছে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান ঘাটতি।




