স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জোটে চাপে যুক্তরাজ্যের ঐক্য
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতারা সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ওয়েস্টমিনস্টারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে চুক্তি করেছেন।

যুক্তরাজ্যের ঐক্যের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতারা তাদের নিজ নিজ দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে সমর্থন করে একটি যৌথ স্মারকে সই করেছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সই হওয়া এই চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের বর্তমান কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তোলা রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো এক জায়গায় এসেছে। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি, প্লেইড কামরু ও সিন ফেইন এখন বৃহত্তর একটি প্রশ্নে সমন্বয় করছে—ওয়েস্টমিনস্টার কি এখনও যুক্তরাজ্যের বিকেন্দ্রীভূত দেশগুলোর সাংবিধানিক পরিবর্তন ঠেকানোর ক্ষমতা রাখবে?
এই চুক্তির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাজ্য এখনই ভেঙে যাচ্ছে। কোনো নতুন স্বাধীনতা ঘোষণা হয়নি এবং এই স্মারকের ফলে কোনো গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়নি।
বরং এটি যুক্তরাজ্যের এমন তিনটি অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা, যারা ওয়েস্টমিনস্টার ও বিকেন্দ্রীভূত সরকারগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ক্রমেই বেশি প্রশ্ন তুলছে।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড
যুক্তরাজ্যের ভেতরে স্বাধীনতার প্রশ্নে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান স্কটল্যান্ডের। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে রয়েছে। বহু বছর ধরে স্কটিশ রাজনীতিতে এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ওয়েলসের অবস্থান কিছুটা আলাদা। প্লেইড কামরু ওয়েলসের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে, তবে দলটি বর্তমানে অবিলম্বে কোনো গণভোটের দাবি করছে না। তবু ওয়েলসের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টায় দলটি অংশ নিয়েছে।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পরিস্থিতি আবার স্বতন্ত্র। সিন ফেইন আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণকে সমর্থন করে এবং এ বিষয়ে একটি গণভোট চায়। এমন কোনো প্রক্রিয়া হলে তা গুড ফ্রাইডে চুক্তির অধীনে থাকা বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে।
তিন রাজনৈতিক আন্দোলনের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য আলাদা হলেও তাদের সহযোগিতার ভিত্তি একই—কোনো দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জনগণের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
“ওয়েস্টমিনস্টারের কোনো দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।”
এখনই ভাঙছে না যুক্তরাজ্য
যৌথ স্মারকের রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও যুক্তরাজ্য এখনই ভেঙে যাচ্ছে না।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থানে পরিবর্তন আনতে হলে প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে। যেখানে প্রযোজ্য সেখানে স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক বিষয়ে গণভোট হতে হবে, এরপর প্রয়োজন হবে আরও আলোচনা ও আইনি ব্যবস্থা।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নির্দিষ্ট বিধান কার্যকর। এর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে সম্ভাব্য সীমান্ত গণভোটের ব্যবস্থাও রয়েছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হওয়ার দাবিতে তুলনামূলক শক্তিশালী কোনো মূলধারার রাজনৈতিক আন্দোলন নেই। ভবিষ্যতে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস বা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য ছাড়লেও ইংল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে থাকবে।
তাই এই স্মারককে আসন্ন বিচ্ছেদের প্রমাণের চেয়ে বর্তমান যুক্তরাজ্য কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা উচিত।
ওয়েস্টমিনস্টারের অবস্থান
যুক্তরাজ্য সরকার দেশটি ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, তার সরকার যুক্তরাজ্যের ঐক্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সরকারের এই অবস্থান এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনগুলোর দাবির মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী দলগুলো বলছে, প্রতিটি দেশের নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গণতান্ত্রিক পথ থাকা উচিত। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকার একটি একক রাজনৈতিক ইউনিয়ন হিসেবে যুক্তরাজ্যকে রক্ষা করার অবস্থানে রয়েছে।
বিতর্কটি তাই শুধু স্বাধীনতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক ক্ষমতার বণ্টন এবং স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মতো বিকেন্দ্রীভূত দেশগুলোর বিষয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের ক্ষমতার সীমা।
এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্য অখণ্ডই রয়েছে। তবে তিন দেশের সমন্বিত অবস্থান দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব যোগ করেছে এবং প্রশ্ন তুলেছে—বর্তমান কাঠামোয় যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও একইভাবে টিকে থাকতে পারবে কি না।
খবরটি কেমন লাগল?
