মূল অংশে যান

Truth Beyond Boundaries

শিক্ষা

এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, কমেছে গত বছরের তুলনায়

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

TBB Newsroom ·

সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সোমবার সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা—তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাতেই পাসের হারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ৩.৯৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ফলাফল শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক একাডেমিক প্রস্তুতি ও শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতার কারণ খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের চিত্র

সমমান পরীক্ষার মধ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার হয়েছে ৫৮.২০ শতাংশ। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ।

দুই বোর্ডের ফলাফলও সামগ্রিক জাতীয় প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিভিন্ন শিক্ষাধারায় শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি ও মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

“শুধু পাসের হার দিয়ে শিক্ষার মান বিচার করা যায় না; শেখার গুণগত দিকও সমান গুরুত্বপূর্ণ,” শিক্ষা বিশ্লেষকদের অভিমত।

পরীক্ষা আয়োজন ও অংশগ্রহণ

এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। পরে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে একযোগে ফল প্রকাশ করা হয়।

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও অন্যান্য নির্ধারিত মাধ্যমে নিজেদের ফল জানতে পারে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ও দেখা যায়।

প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবার আনন্দ উদযাপন করেছে, বিশেষ করে যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে বা প্রত্যাশিত ফল পেয়েছে। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে হতাশাও দেখা গেছে, কারণ তারা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষার ফল শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটিই একমাত্র মানদণ্ড নয়। তারা শিক্ষার গুণগত উন্নয়নের জন্য কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।

বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা শনাক্ত করা।

শিক্ষার্থীদের শেখার মান নিয়মিত মূল্যায়ন করা।

পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন করা।

পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা নিশ্চিত করা।

সামগ্রিকভাবে, এবারের ফলাফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি নীতিনির্ধারক, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা ও দক্ষতা বৃদ্ধিকেই উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

শেয়ার

খবরটি কেমন লাগল?